বাংলা সাহিত্যপ্রেমী, শিক্ষার্থী এবং চাকরির পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কাজী নজরুল ইসলামকে বিদ্রোহী কবি উপাধি দেন কে—এই প্রশ্নটি খুবই পরিচিত। সাধারণভাবে স্বীকৃত তথ্য অনুযায়ী, কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কবিতা বিদ্রোহী প্রকাশের পর সাহিত্যজগতে তাঁর অসাধারণ সাহসী চিন্তা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং স্বাধীনতার চেতনার কারণে তিনি “বিদ্রোহী কবি” নামে পরিচিতি লাভ করেন। তবে এই উপাধিটি কোনো একক ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করেছিলেন—এমন নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং সমকালীন সাহিত্যিক, সম্পাদক, সমালোচক এবং পাঠকমহলের সম্মিলিত স্বীকৃতির মাধ্যমেই এই পরিচয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিদ্রোহী কবিতায় মানবমুক্তি, সাম্য, শোষণবিরোধী অবস্থান এবং অদম্য আত্মশক্তির প্রকাশ নজরুলকে বাংলা সাহিত্যে একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। তাঁর কবিতা, গান, প্রবন্ধ ও গল্পে ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের আহ্বান বারবার উঠে এসেছে। এ কারণেই তিনি শুধু একজন কবি নন, বরং বাঙালির সংগ্রামী চেতনার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।
বর্তমান সময়েও নজরুলের সাহিত্য শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর রচনায় যে প্রতিবাদী কণ্ঠ, মানবিক মূল্যবোধ এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে, তা নতুন প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করে। তাই “বিদ্রোহী কবি” উপাধি মূলত তাঁর সাহিত্যকর্মের শক্তি ও জনস্বীকৃতির ফল, যা বাংলা সাহিত্য ইতিহাসে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।